৩০ জানুয়ারি ২০১৭ - ১৭:৫৯
কো নি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি অ্যামনেস্টির

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) আইনি পরামর্শক ও শীর্ষস্থানীয় মুসলিম আইনজীবী কো নি হত্যার সঠিক তদন্ত করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবনা ডেস্ক: গতকাল রোববার ইয়াঙ্গুনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার পার্কিংয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন কো নি। এই হত্যাকাণ্ড বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুসলিম অধ্যুষিত বাণিজ্যিক রাজধানীতে এই হত্যার পর সেখানকার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে এটি বিরল একটি কাজ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, এ হত্যার সব আলামতই স্পষ্ট রয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে এ হত্যার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ৫৩ বছর বয়সী কাই লিন নামে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গুলি করে পালানোর সময় একজন ট্যাক্সিচালক ওই বন্দুকধারীকে ধরতে গেলে তিনিও আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তরফ থেকে ওই সন্দেহভাজন আততায়ীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি।
কো নির পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা রয়টার্সকে জানান, রাজনৈতিক কাজে সংযুক্ত থাকার কারণে তাঁকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য এখনো তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। এদিকে তাঁর রাজনৈতিক দল এনএলডি তাঁর মৃত্যুকে একটি বিরাট ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার কোনো বিকল্প নেই। দলের পক্ষ থেকে রোববার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের এনএলডি দলের সদস্যদের কোনো রকম দ্বিধা না করে সতর্কতার সঙ্গে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এ হত্যাকাণ্ডকে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। সীমান্তে পুলিশের ওপর হামলার জন্য সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দায়ী করে হামলা চলার পরপরই এ হত্যাকাণ্ড উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কো নি নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্ব সত্ত্বেও মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক শাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। এদিকে সোমবার বিকেল চারটার দিকে ইয়াঙ্গুনের একটি মুসলিম কবরস্থানে কো নির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।